Imported post: Facebook Post: 2021-06-09T07:17:10

অহম+কর=অহংকার, অহম অর্থ আমি এবং আমি আমি করাকে অহংকার বলে। অহংকারী মানুষ শুকনো গাছের মতো। ডালপালা হীন এবং একাকী দাড়িয়ে থাকে ঊর্ধ মুখী হয়ে। আর নিজেকে বড় মনে করে, অন্যকে ছোট। যাকে ইচ্ছে তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। কিন্তু নিরহংকারী ফলদ বৃক্ষদেবী অসংখ্য ডালপালা নিয়ে নীচের দিকে নুইয়ে থাকে। তাঁর ডাল-পালা, লতাপাতা, ফুলফল, মূল কাণ্ড সবই তাঁর নিজের বলে সমানভাবে ভালবাসে। কাউকে ছোটও ভাবে না, বড়ও না।।। অহংকার জীবিত মানুষটাকে মৃত মানুষে পরিণত করে। দেখবেন মৃতদেহের ঘাড় বাঁকা থাকে। আর তাঁর সাথে কেউ থাকতে চায় না। যত তাড়াতাড়ি পারে সমাধিস্থ করে বা শ্মশানে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। তাই, অহংকারী নেতার নেতৃত্ব একসময় সংকুচিত হয়ে আসে। আমি একবার "অহংকারী কে?" ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিয়েছিলাম। ফলাফলে দেখলাম ময়ূর! তখন, গবেষণা করে দেখলাম, ময়ুর খুবই বিলাসী, তাঁর রূপের বড়াই আমরা সবাই বিদিত। সে সাধারণ পশুপাখির সাথে মিশতে পারে না। তাই, দূর্গম বনে বা উঁচু পাহাড়ে বসবাস করে। একাই মনের সুখে নাচে। অহংকারী নেতা ময়ুরের সাথে তুল্য। সে জনবিচ্ছিন্ন এবং বিলাসী বলে দুর্নীতি পরায়ণ হয়ে থাকে। তাঁর চিন্তা ও চেতনায় কেবল,"আমি যে নেতা" এসুরটিই বাজে। এসব অহংকারী নেতা কর্তৃক জনকল্যাণ হয় কদাচিত, অকল্যাণই অবধারিত।।।। প্রকৃতপক্ষে, আমরা যাঁরা অন্যকে অবজ্ঞা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও ছোট বা বড় করি, অন্যের দোষ দেখে বেড়াই, নিজের দিকে মোটেও তাকানোর ফুরসত নেই, তাঁরা সবাই অহংকারী। মোদ্দা কথাটি হলো কাউকে ছোট বা বড় কোনোভাবেই দেখা সমুচিত নয়। যাঁর যতোটুকু যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁকেও সেভাবেই সম্মান করতে হবে। অতিরিক্ত মূল্যায়ন করাও দোষহীন নয়। অতিরিক্ত সম্মান করাও দোষকীর্তনের সমান।।। আসুন, যাঁর যেটুকু প্রাপ্য আমরা তাঁকে সেটুকুই প্রদান করি, কমও নয়, বেশিও নয়। সবার প্রাপ্যতা বিবেচনায় রেখে পদ পদবি বণ্টন করি। নিজেকে নিরপেক্ষ না করতে পারলে বাহুল্য কথা বলে লাভ নেই। এতে অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া যায় না, কেবল নির্দিষ্ট কাউকে বা গোষ্ঠীকে তোষামোদ করা ছাড়া। আমার, এ লেখা যাঁরই বিরোধিতা করবে সেই অহংকারী বলে প্রমাণিত হবে। আপনি নিজেই নিজেকে যাচাই করুন। আমার এ মূল্যবান বক্তব্য আপনার অন্তরে জ্বালা ধরিয়ে দিয়ে থাকলে, আপনি নিশ্চিত অহংকারী। অতএব, নিজের পতন সম্পর্কে সচেতন থাকুন। সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ যে বিনয়ী হোন। অন্যের প্রতি দোষারোপ করতে গিয়ে নিজের উগ্রতা, প্রতিহিংসা পরায়ণতা, নিচুতা, অদূরদর্শীতা ইত্যাদি নেতিবাচক অনেক কিছুই প্রকাশ করে যাচ্ছেন। আমরা নিজেকে বড় প্রমাণ করতে গিয়ে প্রকারান্তরে ছোট-ই করছি। অতএব, সাবধানতা অবলম্বন করতে পারাই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। আমরা আসলে কাউকেই ছোট করতে পারি না, নিজেকে ব্যতিরেকে। তবে, নিজেকে চিন্তা, মনন ও কর্মের দ্বারা এবং সর্বোপরি আচরণের দ্বারা বড় করে তোলা যায়। আসুন, আমরা "তুমি", "তুই", " তোমরা", "তোরা", " আমি", "আমরা", "সে", " তারা" শব্দগুলো বিনীতভাবে ব্যবহার করি এবং নিজেকে অন্যের কাছে বড় করে তুলি। কারো অবদানকে ছোট করে না দেখি। সাম্য অধিকার আদায় করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক মনোভাব পোষণ না করি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখি। এটা ধর্ম এবং আন্দোলন সংগ্রামের মূল প্রতিপাদ্য গুণ। অসাম্প্রদায়িকতা অধর্ম। অনৈক্যের চোরাবালিতে ফেলে দিয়ে সম্প্রদায়কে ব্যর্থ করে দেয়। উল্লেখ্য, আমরা শিক্ষক সম্প্রদায়, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের একতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবোধ, গণতন্ত্র এবং মানবত্ব প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দিয়ে থাকি। আমরা সমাজের দর্পনারায়ণ ঠাকুর! আমাদের শিরোপা আমাদেরই সমুন্নত রাখতে হবে।।। জাতীয়করণ আন্দোলনের বিকল্প নেই। আর এর সফলতার জন্য ঐক্য অনস্বীকার্য! ধন্যবাদ!

No comments

Thanks for your valuable comment.

Powered by Blogger.